কলকাতা বইমেলা ২০২৫-এ আমার বইয়ের ছোট্ট দুই ক্রেতা।

Sunday, May 25, 2025

 *** বই: ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০০ বছরের ১৭০ ঘটনা ***

১৯৪১
নলিনীরঞ্জন হলেন সভাপতি, জ্যোতিষচন্দ্র সচিব, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতির প্রচলন হল
জন্মের পর থেকে ইস্টবেঙ্গল মূলতঃ ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিচালনায় অগ্রসর হয়েছে। সুরেশচন্দ্র চৌধুরি, তড়িৎভূষণ রায়, মন্মথনাথ রায়চৌধুরি, বনোয়ারিলাল রায়, নলিনীরঞ্জন সরকার প্রমুখ প্রতিষ্ঠিত মানুষদের ব্যক্তিগত প্রয়াসে হয়েছে ক্লাবের অগ্রগতী। ক্লাবের কোনও অফিস ছিল না, কাগজপত্র নিয়ম করে রক্ষণাবেক্ষণ হত না। আর্থিক প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করতেন মূলতঃ উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিগণ।
১৯৩৯ সালে আই এফ এ'র সাথে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সংঘাত ও বিতন্ডার পরে ক্লাব আধিকারিকরা অনুভব করেন ক্লাব পরিচালনার আভ্যন্তরীণ কাঠামোর সংস্কার ও পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, ক্লাবকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে না-পারলে ভবিষ্যতে এ ধরনের লড়াই চালানো সম্ভব হবে না। ক্লাবের ব্যপ্তির প্রসারের জন্য, জনগণের মধ্যে ক্লাবকে আরো প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় করে তোলার জন্য ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে সদস্য ও সমর্থকদের ক্লাব করে তুলতে হবে।
এই বছরেই সভাপতি হলেন নলিনীরঞ্জন সরকার আর সচিব হলেন জ্যোতিষচন্দ্র গুহ।
জ্যোতিষ গুহ ছিলেন অনেকটাই নলিনীরঞ্জনের অনুগামী। মন্মথনাথ রায়চৌধুরি ও সুরেশচন্দ্র-তড়িৎভূষণ জুটি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে শক্ত বুনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে ব্রতী হয়েছিলেন, নলিনীরঞ্জন-জ্যোতিষচন্দ্র জুটি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে সংস্কারে উদ্যোগী হন। মূলতঃ জ্যোতিষচন্দ্র গুহের ভাবনা, ইচ্ছা ও পরিকল্পনাতেই ১৯৪১ সাল থেকে ধীরে ধীরে ব্যক্তিকেন্দ্রকতা ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হওয়ার দিকে পা বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল।
ক্লাব পরিচালনার জন্য এর আগে কোনো অফিস ছিল না। খোলা হলো ক্লাবের অফিস। এতদিন ক্লাবের সদস্যদের তালিকা সঠিকভাবে রক্ষিত হতো না। এই সময় থেকে ধীরে ধীরে সভ্যদের তালিকার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হয়।
এর আগে সঠিক সদস্য-তালিকা ছিল না। ১৯৪১ সালে সঠিক সদস্য-তালিকা তৈরি করা হলে দেখা যায় সদস্য সংখ্যা ৭০০। আর এই সময় ক্লাবের সদস্যদের বাৎসরিক চাঁদা ছিল ১২ টাকা। এই হিসাবে, সেই বছরে সদস্য চাঁদা বাবদ ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের আয় হয়েছিল প্রায় ৮৪০০ টাকা।
এর আগে আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব রক্ষিত হত না। এই বছরেই তা শুরু হয়। এই সময়ের আগে কোষাধ্যক্ষের একক স্বাক্ষরে ক্লাবের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কাজকর্ম চালিত হত। অনেকক্ষেত্রে আইনসম্মত কাজ না হওয়ার অভিযোগ করতেন ক্লাবের হিসাব পরীক্ষক। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের জন্য সচিব ও কোষাধ্যক্ষ – এই দু’জনের স্বাক্ষরের নিয়ম চালু হয়।
ক্লাবের অফিস খোলা, সদস্যদের সঠিক তালিকা তৈরি করা, আয়-ব্যয় নির্ণয় তার হিসাবের রক্ষণাবেক্ষণ চালু করা, ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের জন্য ক্লাবের সচিব ও কোষাধ্যক্ষের যুগ্ম স্বাক্ষরের নিয়ম প্রবর্তন – এই সব সংস্কারের মাধ্যমে ১৯৪১ সালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের নবজন্ম হয়েছিল, যে নতুন জীবন প্রাতিষ্ঠনিক গণতন্ত্রকে মান্য ও অনুসরণ করেছে পরবর্তী দশকগুলোতেও।
১৯৪২ - নির্বাচনেও লাগলো গণতন্ত্রের ছোঁয়া,
শুরু হল মৃদু নির্বাচনী প্রতিযোগিতা
১৯৪২ সালের আগে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের নির্বাচন ছিল গতানুগতিক, উত্তাপ-উত্তেজনাবিহীন নির্বাচন। নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না, তাই সদস্যরা টেরই পেতেন না কখন নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু ১৯৪২ সালের নির্বাচনে সামান্য হলেও পাওয়া গেল প্রতিদ্বন্দিতার আঁচ। ১৯৪২ সালের নির্বাচনের আগে বনোয়ারিলাল জানালেন তিনি আর সচিব থাকতে চান না। সবাই তাঁকে থেকে যেতে অনুরোধ করলেও তিনি তাঁর মত পরিবর্তন করলেন না। বনোয়ারিলাল রায়ের জায়গায় বার-অ্যাট-ল এ কে বসুর নাম প্রস্তাবিত হলেও, মনোনয়ন পত্র খুলে দেখা গেল নাম রয়েছে বনোয়ারিলাল রায়ের।
বনোয়ারিলাল নাম প্রত্যাহার করলে এ কে বাসুই সচিব হলেন। কিন্তু প্রথমবার ইস্টবেঙ্গলের নির্বাচনে একই পদের জন্য একাধিক নামের উত্থাপন হল। ক্লাবের গণতন্ত্রে প্রোথিত হল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বীজ।
------------------------------------------------------
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এইরকম ১৭০ ঘটনার খোঁজ পাওয়া যাবে আমার লেখা
'ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০০ বছরের ১৭০ ঘটনা' বইয়ে।
বইটি প্রকাশিত হয়েছিল এবছরের বইমেলায় আই এফ এ'র স্টলে। প্রকাশ করেছিলেন বর্ষীয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক জয়ন্ত চক্রবর্তী (পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিওতে)।
এই বইয়ের ১ম মুদ্রণের সব কপি ইতোমধ্যে বিক্রীত।
২য় মুদ্রণ পাওয়া যাবে কয়েকদিনের মধ্যে।
এই বইয়ের প্রচ্ছদ - বিশাল দাস।
সংযুক্ত ভিডিও - স্বরূপ সরকার।


Wednesday, December 29, 2021

 ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬, 'এই সময়' দৈনিক সংবাদপত্রের অফিসে আড্ডার প্রতিবেদন প্রকাশিত   ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬,  'এই সময়'-এ।


https://www.facebook.com/103167551823684/posts/306535394820231/?sfnsn=wiwspmo


'জয় বাংলা সংবাদ'-এ সনৎ শেটের '৫৬-র অলিম্পকে ভারতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার কারণ নিয়ে আমার লেখা এক প্রতিবেদন।

Saturday, December 25, 2021

 আজকের (২৫-১২-২০২১) 'সংবাদ প্রতদিন'-এ প্রসূন ব্যানার্জির লেখা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে উনি লিখেছেন ১৯৬৭ সালে ইস্টার্ন রেলের হয়ে শেষ ম্যাচে পি কে ব্যানার্জির গোলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেছিলেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক সনৎ শেট।

কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হলো -
১) ১৯৬৭ সালে সনৎ শেট মোহনবাগানে ছিলেন না, ছিলেন ইস্টবেঙ্গলে।
২) ১৯৬৭ সালে ফুটবল জীবনের সায়াহ্নে এসে সনৎ শেট মাত্র কয়েকটি ম্যাচ খেলেছিলেন, অধিকাংশ ম্যাচ খেলেছিলেন থঙ্গরাজ, কয়েকটি ম্যাচ খেলেছিলেন প্রসাদ।
৩) কলকাতা লিগের শেষ ম্যাচে ইস্টার্ন রেলের হয়ে পি কে ব্যানার্জি খেলেছিলেন মহামেডানের বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। ওইদিনই চুনি গোস্বামীর গোলে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ হারালে মহামেডান লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়।
৪) ১৯৬৭ সালে মোহনবাগানের গোলরক্ষক ছিলেন প্রদ্যোৎ বর্মন, কমল সরকার ও কানাই সরকার।
অর্থাৎ ১৯৬৭ সালে ইস্টার্ন রেলওয়ের হয়ে শেষ ম্যাচে পি কে ব্যানার্জি মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলেন নি, মহামেডানের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন। আর ১৯৬৭ সালে সনৎ শেট মোহনবাগান বা মহামেডানের গোলরক্ষক ছিলেন না, ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক, আর খেলেছিলেন মাত্র কয়েকটা ম্যাচ। তাই কোনোভাবেই ১৯৬৭ সালে পি কে ব্যানার্জির শেষ ম্যাচে সনৎ শেঠের মুখোমুখি হওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।






Friday, December 24, 2021

  ২৮ নভেম্বর, ২০২১, প্রকাশিত হলো 'প্রয়াস' পত্রিকাটি।  এখানে রয়েছে আমার এক ছোট্ট কবিতা।



২৪ ডিসেম্বর, ২০২১ -   বাংলার শিক্ষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী গত ১৮ ডিসেম্বর কিনলেন 'ইস্টবেঙ্গলের স্বর্ণযুুগের সোনার কর্তা অজয় শ্রীমানী।' এর আগে ২০ নভেম্বর কিনেছিলেন 'কুইজে শতবর্ষের শ্রেষ্ঠ ইস্টবেঙ্গল ক্লাব, প্রথম খণ্ড' ও 'ইস্টবেঙ্গলের স্বর্ণযুুগের সোনার কর্তা অজয় শ্রীমানী।' গতকাল ফোন করে 'ইস্টবেঙ্গলের স্বর্ণযুুগের সোনার কর্তা অজয় শ্রীমানী'-বইটার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন।






 


২৪ ডিসেম্বর, ২০২১ - ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১০, জ্যোতিষদা'র নামে রাস্তা উদ্বোধনের দিন ভারতের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষক সনৎ শেটের সাথে প্রথম ও শেষবার দেখা এবং একমাত্রবার কথা বলা। কথা বলার সময়ে কোনো ছবি কেউ তোলেননি। তবে হ্যাঁ, সেদিন তাঁর স্বাক্ষর নিয়েছিলাম। সনৎ শেট আজ চলে গেলেন। তাঁর স্মৃতিটুকু থেকে গেলো।

আমার লেখা 'ইস্টবেঙ্গলের স্বর্ণযুগের সোনার কর্তা অজয় শ্রীমানী বইয়ে একটা অধ্যায় রয়েছে সনৎ শেটকে নিয়ে, যার মধ্যে রয়েছে মূলত সনৎ শেটকে নিয়ে অজয় শ্রীমানীর স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়ন।


  *** বই: ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০০ বছরের ১৭০ ঘটনা *** ১৯৪১ নলিনীরঞ্জন হলেন সভাপতি, জ্যোতিষচন্দ্র সচিব, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীত...