*** বই: ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০০ বছরের ১৭০ ঘটনা ***
নলিনীরঞ্জন হলেন সভাপতি, জ্যোতিষচন্দ্র সচিব, ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতির প্রচলন হল
জন্মের পর থেকে ইস্টবেঙ্গল মূলতঃ ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিচালনায় অগ্রসর হয়েছে। সুরেশচন্দ্র চৌধুরি, তড়িৎভূষণ রায়, মন্মথনাথ রায়চৌধুরি, বনোয়ারিলাল রায়, নলিনীরঞ্জন সরকার প্রমুখ প্রতিষ্ঠিত মানুষদের ব্যক্তিগত প্রয়াসে হয়েছে ক্লাবের অগ্রগতী। ক্লাবের কোনও অফিস ছিল না, কাগজপত্র নিয়ম করে রক্ষণাবেক্ষণ হত না। আর্থিক প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করতেন মূলতঃ উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিগণ।
১৯৩৯ সালে আই এফ এ'র সাথে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সংঘাত ও বিতন্ডার পরে ক্লাব আধিকারিকরা অনুভব করেন ক্লাব পরিচালনার আভ্যন্তরীণ কাঠামোর সংস্কার ও পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, ক্লাবকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে না-পারলে ভবিষ্যতে এ ধরনের লড়াই চালানো সম্ভব হবে না। ক্লাবের ব্যপ্তির প্রসারের জন্য, জনগণের মধ্যে ক্লাবকে আরো প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় করে তোলার জন্য ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে সদস্য ও সমর্থকদের ক্লাব করে তুলতে হবে।
এই বছরেই সভাপতি হলেন নলিনীরঞ্জন সরকার আর সচিব হলেন জ্যোতিষচন্দ্র গুহ।
জ্যোতিষ গুহ ছিলেন অনেকটাই নলিনীরঞ্জনের অনুগামী। মন্মথনাথ রায়চৌধুরি ও সুরেশচন্দ্র-তড়িৎভূষণ জুটি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে শক্ত বুনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত করতে ব্রতী হয়েছিলেন, নলিনীরঞ্জন-জ্যোতিষচন্দ্র জুটি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে সংস্কারে উদ্যোগী হন। মূলতঃ জ্যোতিষচন্দ্র গুহের ভাবনা, ইচ্ছা ও পরিকল্পনাতেই ১৯৪১ সাল থেকে ধীরে ধীরে ব্যক্তিকেন্দ্রকতা ত্যাগ করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হওয়ার দিকে পা বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল।
ক্লাব পরিচালনার জন্য এর আগে কোনো অফিস ছিল না। খোলা হলো ক্লাবের অফিস। এতদিন ক্লাবের সদস্যদের তালিকা সঠিকভাবে রক্ষিত হতো না। এই সময় থেকে ধীরে ধীরে সভ্যদের তালিকার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হয়।
এর আগে সঠিক সদস্য-তালিকা ছিল না। ১৯৪১ সালে সঠিক সদস্য-তালিকা তৈরি করা হলে দেখা যায় সদস্য সংখ্যা ৭০০। আর এই সময় ক্লাবের সদস্যদের বাৎসরিক চাঁদা ছিল ১২ টাকা। এই হিসাবে, সেই বছরে সদস্য চাঁদা বাবদ ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের আয় হয়েছিল প্রায় ৮৪০০ টাকা।
এর আগে আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব রক্ষিত হত না। এই বছরেই তা শুরু হয়। এই সময়ের আগে কোষাধ্যক্ষের একক স্বাক্ষরে ক্লাবের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কাজকর্ম চালিত হত। অনেকক্ষেত্রে আইনসম্মত কাজ না হওয়ার অভিযোগ করতেন ক্লাবের হিসাব পরীক্ষক। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের জন্য সচিব ও কোষাধ্যক্ষ – এই দু’জনের স্বাক্ষরের নিয়ম চালু হয়।
ক্লাবের অফিস খোলা, সদস্যদের সঠিক তালিকা তৈরি করা, আয়-ব্যয় নির্ণয় তার হিসাবের রক্ষণাবেক্ষণ চালু করা, ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের জন্য ক্লাবের সচিব ও কোষাধ্যক্ষের যুগ্ম স্বাক্ষরের নিয়ম প্রবর্তন – এই সব সংস্কারের মাধ্যমে ১৯৪১ সালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের নবজন্ম হয়েছিল, যে নতুন জীবন প্রাতিষ্ঠনিক গণতন্ত্রকে মান্য ও অনুসরণ করেছে পরবর্তী দশকগুলোতেও।
১৯৪২ - নির্বাচনেও লাগলো গণতন্ত্রের ছোঁয়া,
শুরু হল মৃদু নির্বাচনী প্রতিযোগিতা
১৯৪২ সালের আগে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের নির্বাচন ছিল গতানুগতিক, উত্তাপ-উত্তেজনাবিহীন নির্বাচন। নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না, তাই সদস্যরা টেরই পেতেন না কখন নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু ১৯৪২ সালের নির্বাচনে সামান্য হলেও পাওয়া গেল প্রতিদ্বন্দিতার আঁচ। ১৯৪২ সালের নির্বাচনের আগে বনোয়ারিলাল জানালেন তিনি আর সচিব থাকতে চান না। সবাই তাঁকে থেকে যেতে অনুরোধ করলেও তিনি তাঁর মত পরিবর্তন করলেন না। বনোয়ারিলাল রায়ের জায়গায় বার-অ্যাট-ল এ কে বসুর নাম প্রস্তাবিত হলেও, মনোনয়ন পত্র খুলে দেখা গেল নাম রয়েছে বনোয়ারিলাল রায়ের।
বনোয়ারিলাল নাম প্রত্যাহার করলে এ কে বাসুই সচিব হলেন। কিন্তু প্রথমবার ইস্টবেঙ্গলের নির্বাচনে একই পদের জন্য একাধিক নামের উত্থাপন হল। ক্লাবের গণতন্ত্রে প্রোথিত হল নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বীজ।
------------------------------------------------------
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের এইরকম ১৭০ ঘটনার খোঁজ পাওয়া যাবে আমার লেখা
'ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০০ বছরের ১৭০ ঘটনা' বইয়ে।
বইটি প্রকাশিত হয়েছিল এবছরের বইমেলায় আই এফ এ'র স্টলে। প্রকাশ করেছিলেন বর্ষীয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক জয়ন্ত চক্রবর্তী (পোস্টের সঙ্গে সংযুক্ত ভিডিওতে)।
এই বইয়ের ১ম মুদ্রণের সব কপি ইতোমধ্যে বিক্রীত।
২য় মুদ্রণ পাওয়া যাবে কয়েকদিনের মধ্যে।
এই বইয়ের প্রচ্ছদ - বিশাল দাস।
সংযুক্ত ভিডিও - স্বরূপ সরকার।